ওয়েব ডিজাইন, ওয়েব ডেভলপমেন্ট, টিউটোরিয়াল

ওয়ার্ডপ্রেসের ২৫টি সাধারণ ভুল যা এড়িয়ে চলা উচিত (পঞ্চম পর্ব)

25-error-in-wp-5th-part

২১. আর্কাইভ ভারী হয়ে যাওয়াঃ

শুরুর দিকে ওয়ার্ডপ্রেস সাইটের সাইডবারের আর্কাইভ নামক উইজেটটিকে সিম্পল এবং সাজানো মনে হয় কারণ তখন এটা মাত্র কয়েকমাসের ডেটা বা তথ্য দেখায়। কিন্তু সাইট যত পুরনো হতে থাকে তখন এটা বেশ বিরক্তিকর এবং ঘিঞ্জি মনে হয় কারণ তখন কয়েক বছরের ডেটা জমে যায়, তাতে আর্কাইভটা অনেক বড় এবং ভারী মনে হয়।
এক্ষেত্রে একটা কাস্টম আর্কাইভ পেজ তৈরি করতে পারেন অথবা প্রয়োজনে ড্রপ-ডাউন আর্কাইভ ব্যবহার করতে পারেন।

২২. ছবি ব্যবহারে অসাবধানতাঃ

নতুন ডেভলপার লেভেলে বা শিক্ষানবিশ কালে আমরা সাইটের পারফরম্যান্স, স্পিড, স্টোরেজ স্পেস বা সাইটের ধারণক্ষমতা, নন-অপ্টিমাইজড ইমেজ আপলোডের ব্যাপারে যত্নবান হইনা। যখন একটু অভিজ্ঞ হয়ে যাই বা সাইটের ধারণক্ষমতা কমে যায়, তখন বুঝতে পারি যে, ছবি বা ইমেজ গুলো আপলোড অপ্টিমাইজ করে দিলে ছবির সাইজ কমে যেত আর ধারণক্ষমতাও বেশি থাকত। তবে এক্ষেত্রে ছবি কোয়ালিটি খুব একটা হেরফের হয় না।

অ্যাডোবি ফটোশপে “সেভ ফর ওয়েব(save for web)” এর একটি সুবিধা আছে। এছাড়া বিনামূল্যে GIMP, JPEG MINI নামের এসব সফটওয়্যার টুল দিয়েও অপ্টিমাইজ করা যায়।

২৩. ওয়েবসাইটের নিরাপত্তার ব্যাপারে গুরুত্বহীনতাঃ

হ্যাকিংয়ের শিকার হওয়ার আগে বেশিরভাগ ব্যবহারকারীই তাদের সাইটের নিরাপত্তা সম্পর্কে সচেতন থাকেন না। এই কারণেই তারা প্রথমে ব্যাকআপ রাখেন না। আপনার ওয়ার্ডপ্রেস সাইটের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরো জোরালো করতে প্রয়োজনীয় যেসব পদক্ষেপ নিতে পারেনঃ

·       সাইটের ব্যাকআপ রাখা

·       লগইন করার সুবিধাকে সীমিত রাখা

·       গুগল অথেনটিকেশনসহ অন্তত দ্বিস্তরবিশিষ্ট অথেনটিকেশনের ব্যবস্থা রাখা।

·       নিরাপত্তা প্লাগইন ব্যবহার করা, যেমন – Wordfence, iThemes Security, Sucuri, All In One WP Security & Firewall, BulletProof Security.
(তবে এসব প্লাগইন অবশ্যই আগে লোকাল সার্ভারে পরীক্ষা করে নেয়া উচিত।)

২৪. সবকিছু হার্ড কোডিং করাঃ

অধিকাংশ প্রোগ্রামার বা ওয়ার্ডপ্রেস ডেভলপাররা যখন থিম বা প্লাগইন বানান, তখন সবকিছু হার্ডকোডিং করে থাকেন। আর ব্যবহারকারীদের জন্য বেশ কিছু ইনপুট বক্স ও সেখানে মান দিয়ে রাখার ব্যবস্থা করেন যাতে করে কোডিংয়ে হাত না দিয়েই কাজ করা যায়। যদি কোডিংয়ে কোন ভুল হয়, তাহলে সাইট পরিচালনা করা কঠিন হয়ে যেতে পারে।

আর একটা কথা মনে রাখতে হবে, ওয়ার্ডপ্রেস জনপ্রিয় হওয়ার মূল কারণ এটি ব্যবহার করা সহজ। সুতরাং, ব্যবহারকারীদেরও যদি হার্ড কোডিং করে সাইট চালাতে হয়, তাহলে এর মূল উদ্দেশ্যই ব্যাহত হবে।

তাই উপযুক্ত দক্ষতা না থাকলে হার্ড কোডিং করা উচিত নয়। কোডিং করার আগে ফাইলটির ব্যাকআপ নিয়ে নিতে হবে। কোন সমস্যা হলে আগের ফাইল নতুন করে বসিয়ে দিতে হবে। যারা থিম পরিবর্তন করবেন তারা থিম পরিবর্তন করার সাথে সাথে এই কোডও পরিবর্তন করে নিবেন। তা না হলে নতুন থিম কাজ করবে না।

২৫.  আরও বেশি শেখার প্রতি জোর না দেয়াঃ

আপনি যে প্লাটফর্ম বা টেকনোলজি ব্যবহার করছেন, সেই প্লাটফর্ম বা টেকনোলজি সম্পর্কে আরো জানার চেষ্টা না করাটা সবচেয়ে বড় একটি ভুল। এই কথাটি অন্যান্য সব ক্ষেত্রের মতই ওয়ার্ডপ্রেসের বেলায়ও সত্যি। প্রায় প্রতিদিনই কোন না কোন নতুন প্লাগিন এবং সমাধান বের হচ্ছে। তবে সে সম্পর্কে জানার আগে আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আছে। আমরা সবসময় আমাদের পাঠকদের ওয়ার্ডপ্রেস সম্পর্কে আরও জানতে এবং এর সম্পর্কিত অন্যান্য বিষয়াবলি জানানোর ব্যাপারে সচেষ্ট, তাই সবসময় টেকপেজবিডি’র সাথেই থাকুন।

এই সিরিজের অন্য পর্বগুলোঃ

0 Comments

Md. Shah Jamal Sumon

As a Full Time Web Developer, WordPress & Laravel Specialist Since 2015.

Reply your comment

Your email address will not be published. Required fields are marked*

nine − 5 =