ওয়েব ডিজাইন, ওয়েব ডেভলপমেন্ট, টিউটোরিয়াল

ওয়ার্ডপ্রেসের ২৫টি সাধারণ ভুল যা এড়িয়ে চলা উচিত (দ্বিতীয় পর্ব)

25-error-in-wp-2nd-part

৬। ক্যাটাগরি, পেইজ এবং ট্যাগ ব্যাবহারে অজ্ঞতা:

ক্যাটাগরি বলতে আমরা অনেকগুলো পোষ্ট-এর একটি গ্রুপকে বুঝি। ব্লগ বা নিউজ সাইটগুলোতে আমরা এর ব্যবহার করে অনেক সুবিধা পেতে পারি। আমরা প্রয়োজন অনুযায়ী ক্যাটাগরি তৈরি করতে পারলেও wordpress.org ৩০ এর বেশি ক্যাটাগরি রাখাকে ব্যাড প্রাকটিস বলেছে। সেক্ষেত্রে আমরা সাব ক্যাটাগরি তৈরি করতে পারি।  আবার বিজনেস ওয়েবসাইটগুলোতে পেইজ-এর ব্যবহার বেশি হয়ে থাকে। কেননা এখানে ভিন্ন ভিন্ন কন্টেন্ট নিয়ে পেইজগুলো সাজাতে হয়। আমরা পেইজগুলো আমাদের ইচ্ছামত সাজাতে পারি। প্রয়োজন অনুযায়ী পেইজ তৈরিও করতে পারি।

আবার ট্যাগ বলতে আমরা সেই ইনডেক্স ওয়ার্ডগুলোকে বুঝে থাকি যে গুলো আমাদের পোস্টগুলোর সংক্ষিপ্ত বর্ণনা। যেগুলো আমাদের পোস্ট গুলোকে এককথায় প্রকাশ করে থাকে। SEO ফ্রেন্ডলি হওয়ার ক্ষেত্রে ট্যাগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আপনাদের মনে হয়ত প্রশ্ন জেগেছে SEO আসলে কি? SEO হল Search Engine Optimization যা আমাদের ওয়েবসাইট গুলোকে google কে চিনতে সাহায্য করে থাকে। এ বিষয়ে অন্য একদিন বিশদভাবে আলোচনা করবো। তাহলে আপনারা বুঝতে পেরেছেন নিশ্চয় ক্যাটাগরি, পেইজ এবং ট্যাগ এর ব্যবহার খুবই গুরুত্বপূর্ণ এগুলো সম্পর্কে পূর্ণ দক্ষতা অর্জনের চেষ্টা করলে আশা করা যায় আপনারা যথাযথভাবে কাজ করতে পারবেন।

৭। পারমালিংক সেট আপ না করা:

অনেক সময় দেখা যায় সম্পূর্ণ সাইট ওকে করার পর লিঙ্ক গুলোতে ক্লিক করলে “404 page not found” এরর দেখায়। যেমন ধরুন, আপনি সঠিকভাবে সব কাজ শেষ করেছেন তারপর দেখছেন মেনুগুলোতে ক্লিক করলে “404 not found” আসছে অনেকে এই সমস্যায় খুবই চিন্তিত হয়ে পরেন। আসলে এটা ওয়ার্ডপ্রেস এর এডমিন ড্যাশ-বোর্ড এর সেটিং থেকে ১ ক্লিক করেই সমাধান করা সম্ভব। Setting এ গিয়ে পারমালিংকে post name অপশনটা সিলেক্ট করে দিলেই কাজ হয়ে যাবে।

৮। SEO ইনডেক্স ডিসকারেজ করা থেকে বিরত থাকা:

 

আমরা ওয়ার্ডপ্রেস ইন্সটল করার সময় সাবমিট বাটন এর উপরে একটি চেক বাটন দেখতে পাই। বেশিরভাগ ডেভেলপার এটা এড়িয়ে যান। কিন্তু এটা গুগল ইনডেক্সিং এর ক্ষেত্রে খুব গুরুত্বপূর্ণ। কেননা যখন ওয়েবসাইট ডেভেলপমেন্ট-এ থাকে তখন প্রায়শই ডামি ডাটা ইনপুট করা হয়ে থাকে। তখন যদি সার্চ ইঞ্জিন ইনডেক্সিং ডিসকারেজ করা না থাকে তাহলে গুগল সেই ডামি ডাটা ইনডেক্স করে নেয়। যার ফলে পরবর্তীতে ওয়েবসাইটটি কে SEO ফ্রেন্ডলি করতে সমস্যা হয়। অনেকে মনে করেন ওয়ার্ডপ্রেস ইন্সটল করে SEO Yoast একটা প্লাগইন ইন্সটল করলেই কাজ শেষ। জেনে রাখা ভালো শুধু প্লাগইন ইন্সটল করলেই ওয়েবসাইট SEO ফ্রেন্ডলি হয় না।  এটা কয়েকটি ধাপ মেনে সম্পন্ন করতে হয়। যেহেতু এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা সময় সাপেক্ষ, সেহেতু এ বিষয়ে অন্য কোন টিউটোরিয়ালে আলোচনা করা হবে।

৯। ক্যাশিং প্লাগইন ইন্সটল না করা:

বেশিরভাগ নতুন ডেভলপারই ক্যাশিং সম্পর্কে অজ্ঞ। তারা জানার চেষ্টাও করেন না ক্যাশিং করলে কি কি সুবিধা পাওয়া যায়। অনেকে আবার তার ওয়েবসাইট এর লোডিং স্পীড নিয়ে খুবই চিন্তিত হয়ে পড়েন। এদের জন্য সব থেকে ভালো সমাধান ক্যাশ করে রাখা। যা আমরা একটি প্লাগইন ব্যবহার করেই পেতে পারি। ওয়ার্ডপ্রেস এ অনেকগুলো প্লাগইন পাওয়া যায় যেগুলো ক্যাশিং এর জন্য খুব ভালো কাজ করে।  যেমন:  W3 Total Cache, WP Fastest Cache, WP Rocket, WP Super Cache, Comet Cache and Cache Enabler etc.

নোট: যে কোন প্লাগইন লাইভ সার্ভারে ব্যবহার করার আগে লোকাল সার্ভারে টেস্ট করে নেয়া উচিত।

১০। পাইরেটেট ওয়ার্ডপ্রেস থিম ব্যবহার করা:

অনেক ডেভেলপারদের দেখা যায় প্রায়শই পাইরেটেট থিম ব্যবহার করে। এটা একটি মারাত্মক ভুল কেননা বেশিরভাগ পাইরেটেট থিম এ ম্যালিসিয়াস কোড থাকে যা পরবর্তীতে অনেক সমস্যার সৃষ্টি করে। দেখা যায় সেই সাইটগুলো ম্যালিসিয়াস কোড দ্বারা আক্রান্ত হয়। লিংক গুলো ম্যালওয়্যার আক্রান্ত হয়ে পড়ে। তাই থিমগুলো ভাল কোন সোর্স থেকে ডাউনলোড করতে হবে। এক্ষেত্রে সবথেকে বিশ্বস্ত পরিচিত নাম https://themeforest.net/ .  তবে এখান থেকে থিম কিনতে হবে। আপনি যদি নতুন ডেভলপার হয়ে থাকেন আমি বলব https://wordpress.org/themes/ থেকে সকল থিম ডাউনলোড করুন।

এটা আপনাকে কখনই ধোঁকা দিবে না। আপনি যদি ভালো করে শিখতে পারেন তাহলে থিম থেকে আপনার পছন্দমত কাস্টমাইজ করে নিতে পারবেন।

এই সিরিজের অন্য পর্বগুলোঃ

0 Comments

Md. Shah Jamal Sumon

As a Full Time Web Developer, WordPress & Laravel Specialist Since 2015.

Reply your comment

Your email address will not be published. Required fields are marked*

15 − seven =