ওয়েব ডিজাইন, ওয়েব ডেভলপমেন্ট, টিউটোরিয়াল

ওয়ার্ডপ্রেসের ২৫টি সাধারণ ভুল যা এড়িয়ে চলা উচিত (প্রথম পর্ব)

25-error-in-wp-1st-part

সুপ্রিয় পাঠক, আজ আমরা ওয়ার্ডপ্রেসের সাধারণ ২৫টি ভুল সম্পর্কে আলোচনা করবো যা বেশিরভাগ নতুন ওয়ার্ডপ্রেস ডেভেলপাররা করে থাকেন। আমরা আশা করছি এই লেখাটি পড়ার পর ওয়ার্ডপ্রেসে কাজ করার সময়, এ ভুল গুলো এড়াতে সক্ষম হবেন।

১। ভুল প্ল্যাটফর্ম নির্বাচন:

অনেকের মধ্যেই wordpress.com ও wordpress.org এ দুটো নিয়ে বিভ্রান্তি দেখা যায়। যদিও এটা খুবই সাধারণ বিষয়। অনেক সময় ব্যবহারকারীরা শুধুমাত্র একটি সাধারণ ব্যক্তিগত ব্লগ তৈরি করতে চান, তখন wordpress.com এ একটি ফ্রি ওয়ার্ডপ্রেস সাইট তৈরি করে ব্লগ তৈরি করতে পারেন। অন্যথায়, আপনি যদি নিজস্ব সার্ভারে সাইট হোস্ট করতে চান সেক্ষেত্রে আপনাকে wordpress.org থেকে ওয়ার্ডপ্রেসের সর্বশেষ আপডেটকৃত .zip ফাইলটা ডাউনলোড করে সেটা আপনার সার্ভারে হোস্ট করতে হবে। আপনি যদি প্রফেশনাল ওয়ার্ডপ্রেস ডেভেলপার হতে চান তবে wordpress.com এর পরিবর্তে wordpress.org ই আপনার জন্য সঠিক গাইড লাইন হতে পারে।

২। ওয়ার্ডপ্রেস ব্যাকআপ না রাখা:

অনেক সময় দেখা যায় ব্যাকআপ না রাখার কারণে সাইট কোন কারণে নষ্ট হলে আবার প্রথম থেকে শুরু করতে হয়। কখনো দেখা যায় অনেক প্রসিদ্ধ বা নামকরা সাইটও ব্যাকআপ না থাকার কারণে হারিয়ে যায়। তখন তা আর ফিরে পাওয়া যায় না। এক্ষেত্রে ব্যবহারকারীদের জন্য পরামর্শ যে, আপনি ওয়ার্ডপ্রেস স্বয়ংক্রিয় ব্যাকআপ তৈরি করে রাখুন। নিচের প্লাগইনগুলো ব্যবহার করতে পারেন BackupBuddy(paid), VaultPress(paid), BackWPup(free)।

এখানে প্রথম দুটি আপনাকে তাদের নিজস্ব সাইট থেকে একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য কিনতে হবে। তবে শেষেরটা ফ্রি যা হোস্টিং প্রোভাইডাররা বিনামূল্যে প্রদান করে থাকে। সেক্ষেত্রে যেসব হোস্টিং প্রোভাইডার এই সার্ভিসটা বিনামূল্যে দেয় আপনি তাদের কাছ থেকে হোস্টিং নিতে পারেন।

৩। ওয়ার্ডপ্রেস ফাইল নিয়মিত আপডেট না রাখা:

আমরা অনেকেই আপডেটকে ভয় পাই। প্রকৃতপক্ষে এটা একটা বড় সমস্যা কেননা অনেক সময় সাইট হ্যাকের জন্য দায়ী কেবল মাত্র wordpress আপডেট না করা। ওয়ার্ডপ্রেস সর্বশেষ সংস্করণ 4.9.1 আপনারা দেখে থাকবেন খুব অল্প কিছুদিন আগেই এর ভার্সন ছিল 4.9 । একটি ভার্সন থেকে পরবর্তী ভার্সন আপগ্রেড করা খুব কঠিন কাজ নয়।  এটি কেবল এক ক্লিকেই করা সম্ভব। আপগ্রেড করার পর আপনার থিম এবং প্লাগইন যদি আপগ্রেড ভার্সনের হয় তাহলে আপনার সাইট যথাযথভাবে কাজ করবে। তবে, আপগ্রেড করার পূর্বে ওয়ার্ডপ্রেস সাইটের ব্যাকআপ রাখলে ভালো হয়।

৪। ওয়ার্ডপ্রেস ডিফল্ট ফেভিকন ব্যবহার করা:

 

ফেভিকন হল একটি ছোট আইকন যা ব্রাউজার উইন্ডোতে টাইটেলের পাশে প্রদর্শিত হয়। বেশিরভাগ নতুন ডেভলপাররাই এ বিষয় টা উপেক্ষা করে। যার ফল স্বরূপ তাদের হোস্টিং প্রদানকারী,ওয়ার্ডপ্রেসের অথবা থিম কোম্পানির প্রদান করা ফেভিকন প্রদর্শিত হয়। চিন্তা করুন ফেভিকন আপনার ওয়েবসাইট এর পরিচয়পত্র। সেখানে অন্য কোন কোম্পানির আইকন কি শোভনীয়?

৫। functions.php আপডেট করা অথবা এডিট করা:

প্রতিটি থিমের নিজস্ব ফাংশন ফাইল আছে। আপনার ওয়েবসাইট কিভাবে প্রদর্শিত হবে তা নির্ভর করে functions.php ফাইলে কি কি ফিচার এবং ফাংশনালিটি এনাবেল করা আছে তার উপর। তাহলে বুঝতেই পারছেন functions.php ফাইল অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। বেশিরভাগ প্রোগ্রামাররা ওয়ার্ডপ্রেস এডমিন এডিটর থেকে functions.php আপগ্রেড করতে অথবা কোড এডিট না করতে পরামর্শ দিয়ে থাকেন।  কারণ ৮০% সাইট নষ্ট হয় functions.php ফাইল এ ভুল কোড লিখলে। আপনি যদি নতুন ডেভলপার হন তাহলে ওয়ার্ডপ্রেস ফাংশনালিটি ভালো করে রপ্ত করার পর functions.php ফাইল এ কোড লিখবেন।

এই সিরিজের অন্য পর্বগুলোঃ

 

0 Comments

Md. Shah Jamal Sumon

As a Full Time Web Developer, WordPress & Laravel Specialist Since 2015.

Reply your comment

Your email address will not be published. Required fields are marked*

10 − six =